ছেলেরা একটা বয়সের পর আর চোখের জল ফেল

সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ওর সাথে শাড়ি কিনতে যাবার কথা ছিল। হটাৎ স্টুডেন্ট ফোন করে বললো, "স্যার আজ একটু সাতটার দিকে আসেন। আমরা রাতে বাইরে যাবো🙄।"

কাল ওর জন্মদিন। পকেটে মাত্র একশো টাকা আর কিছু ভাংতি আছে। আজ টিউশনির টাকাটা দেবার কথা রয়েছে। আমি আগে থেকে বলে রেখেছিলাম। কিন্তু ওর সাথে শাড়ি কিনতে যাবার কথাও বেশ আগে থেকেই হচ্ছে। ওকে ফোন করে বললাম, "আমাকে হটাৎ সন্ধ্যায় পড়াতে যেতে বলেছে। তুমি না হয়, মাকে নিয়েই যাও🤕।" সে অবশ্য একবার বলেছিল, "কোনভাবে কি পরে যাওয়া যায় না🤔?" তবে জোর করেনি। পড়াতে না গিয়েও উপায় নেই যে! টাকাটা যে খুব দরকার! ওর সাথে কাল বিকালে ঘুরবো। ওকে তো কিছু দিতে হবে🤕! রাতে আবার ওর মা যেতে বলেছে। উনি একটু আধটু জানেন আমাদের দুজনের কথা। তাছাড়া খালি হাতে তো আর ওদের বাড়িতে যাওয়া যায় না🙄।

পড়াতে যেতে দেরি হয়ে গেল। স্টুডেন্টদের বাসায় পৌঁছে দেখি সাড়ে সাতটার একটু বেশি। তখন তারা বাসা থেকে বের হচ্ছে। আন্টি বললো, "বাবা আজ আর পড়াতে হবে না, আমরা বের হচ্ছি। তুমি বরং কাল এসো।" তখন মুখের উপর টাকার কথাটা বলতে পারলাম না🤕। শুধু "হুম" বলে চলে আসলাম। তক্ষুনি ওকে ফোন দিলাম, বললো ও নাকি শাড়ি কিনতে যায়নি🙄।

পরদিন সকালে স্টুডেন্টকে ফোন করে বললাম, আমাকে টাকাটা বিকাশ করতে পারবে কিনা🤔! দরকার হলে, আমি গিয়ে না হয় নিয়ে আসবো। বললো, ওর বাবা-মা নাকি হটাৎ করেই গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। দাদু অসুস্থ। টাকা রেখে যায়নি🙄।

টাকা গিফট সব আশা হাতছাড়া করে দুপুরে শুয়ে ছিলাম। বিকাল চারটা। ঘুম ভাঙলো ওর ফোনে। বললো, ও নাকি বাসার নিচে রিকশা নিয়ে পনেরো মিনিটের ভিতর আসবে। চট করে চোখ-মুখ ধুয়ে একটা দোমড়ানো মোচড়ানো জামা গায়ে দিয়ে নিচে নামলাম। জামাটা ইস্ত্রি করার কথা একদমই খেয়াল নেই। ও একটা কচি কলাপাতা রঙের শাড়ি পরে এসেছে😊। মেয়েটাকে অদ্ভুত রকমের সুন্দর দেখাচ্ছে😘😘।

তারপর ওই রিকশা করে গেলাম এয়ারপোর্ট রোডে। দু'পাশে শুকনো কাশফুল। সেখানে কিছু পথশিশু যেন আমাদের জন্যেই অপেক্ষা করছিল। তাদের সাথে নাকি ওর আগে থেকেই ভাব। কাছে যেতেই ওরা জড়িয়ে ধরে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললো, "হ্যাপি বার্থডে মিষ্টি দিদি😘।" বাচ্চাগুলো ওর জন্যে পদ্মের মালা বানিয়েছে। আমার জন্যেও বানিয়েছে একটা। ওরা নাকি আমাকে চেনে! ও নাকি আমার ছবি বাচ্চাগুলোকে দেখিয়েছে। আমি তো পুরোই অবাক🙄! ওদের মুঠো ভরে চকলেট আর কাপ-কেক দিয়ে চলে এলাম শহরের দিকে। তারপর দুজন শপিংমলে গিয়ে একটা সাদা পাঞ্জাবী কিনলাম। পরশু নাকি ওর মামাতো ভাই বাইরে থেকে আসছে। তার জন্যেই কিনলো।

পকেটে এখনো সেই ১০০ টাকার নোটটা নিয়ে ঘুরছি। আমাকে একপ্রকার জোর করেই ফুচকার দোকানে টেনে নিয়ে গেল। একটাই আবদার, তাকে নাকি ফুচকা খাইয়ে দিতে হবে আজ😊। নিজে একটাও হাত দিয়ে খাবে না। জোরপূর্বক বিলটা আমিই দিলাম। বড্ড খারাপ লাগছে, আজকের দিনেও খালি হাতে দেখা করতে হলো ওর সাথে। মোড়ের চায়ের দোকান থেকে দু-কাপ দুধ চা খেয়ে, রাত আট'টার দিকে রিকশায় দুজনে ওর বাড়ির দিকে রওনা হলাম। পকেটে আর মাত্র কুড়ি'টা টাকা আছে, তাই আর কিচ্ছু নেবার কথা মাথায়ও আসলো না🤕। পথে যেতে, ও কিছু ফুল আর মিষ্টি কিনলো। বললো, মা নাকি নিতে বলেছে!

ওদের বাসায় পৌঁছাতেই ওর মা এসে দরজা খুললো। ও মায়ের হাতে মিষ্টি আর ফুলগুলো দিয়ে বললো, "দেখো মা ওকে কতো করে নিষেধ করলাম এগুলো না আনার জন্য। কিন্তু কিছুতেই আমার কথা শুনলো না😊।" শুনে, আমি মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেলাম🙄। কিন্তু মুখে একটা শুষ্ক হাসি হাসলাম😊। রুমে ঢুকতেই মা বললো, "আচ্ছা তোরা দুটোতে বসে কথা বল, আমি একটু রান্নাঘরের দিকে গেলাম।"

আমার হাতের কব্জিটা ধরে এক ঝটকায় ওর রুমে নিয়ে দরজা আটকে বললো, "আমি দেয়ালের দিকে মুখ করে দাড়াচ্ছি, তুমি চট করে এই পাঞ্জাবীটা পরে নাও😊।"
- মানে কি🤔? ওটা তো তোমার ভাইয়ের🙄!
- কোন ভাই টাই নেই আমার😊। তোমার জন্যেই এনেছি। দ্রুত পরো। মা এক্ষুনি চলে আসবে😘।

আমি পাঁচ বছরের বাচ্চার মতো নিশ্চুপ হয়ে, পাঞ্জাবীটা পরে নিলাম😇। তারপর, রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে বেরিয়ে এলাম। আসার সময় আমার হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিল। পকেটের বাকি টাকাটা দিয়ে রিকশা করে বাসায় আসলাম। এসে ব্যাগ খুলে দেখি একটা টিফিনবক্স। তার ভেতর খাবার আর উপরে একটা ছোট্ট খাম। খামের ভেতরে পাঁচশো টাকার চারটে নোট আর ছোট্ট একটা চিরকুট🙄। তাতে লেখা ছিল, "খাবারটা কাল সকালে খেও। অবশ্যই একটু গরম করে নিও। আর এই টাকাটা তুমি রাখো। বিয়ের পর সুদে আসলে নিবো কিন্তু😘। বাকিটা জীবন এভাবেই পাশে থেকো😘। আর রাস্তা পার হবার সময় আমার হাতটা শুধু শক্ত করে ধরো😘😘😘।"

সত্যি বলতে, ছেলেরা একটা বয়সের পর আর চোখের জল ফেলতে পারে না😥😥। হোক সেটা সুখে কিংবা দুঃখে😥।

গল্পপ্রেমিক
Collected

No comments